Sale!

ইলমে হাদীসের বাতিঘর

Original price was: 290.00৳ .Current price is: 174.00৳ .

  • প্রকাশনায়ঃ হাদ্দাসানা প্রকাশন
  • সংকলনঃ আদনান হিজবুল্লাহ মাদানী, CSAA, উসমান গনী, আমান বিন মালিক
  • সম্পাদনায়ঃ শায়খ শাহ মোহাম্মাদ ওয়ালী উল্লাহ, মুহাদ্দিস মাহমূদুল হাসান, মুফতি মুহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ

Description

Ilme Hadith er Batighor_Cover_Final-01

ইসলামী শরী‘আতের মূল উৎস হচ্ছে দু’টি। আল্লাহ তাআলার কিতাব আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। উভয়টিই ওহীর অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ উভয়টির হিফাযতের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। সুন্নাহ’র গুরুত্ব-মহত্ত্ব, মর্যাদা, তাৎপর্য, ও আবশ্যকতা অপরিসীম। সুন্নাহকে বাদ দিয়ে শরী‘‌আতের পূর্ণতা কল্পনা করা যায় না। সুন্নাহর ওপর নির্ভর করা ব্যতিত কুরআন কারীমের ওপর আমল করাও সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
“এবং তিনি কোনো মনগড়া কথা বলেন না। তিনি যা বলেন, তা ওহী; যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।” (সূরা নাজমঃ ৩-৪)
“রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তোমরা তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।” (সূরা হাশরঃ ৭)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
“আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি জিনিস রেখে গেলাম, যেগুলো আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পরে আর কখনো পথভ্রষ্ট হবে না- আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।” (সহীহুল জামে’ লিল-আলবানীঃ ২৯৩৭)

ইসলামী জীবনব্যবস্থায় হাদীসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এই হাদীসই হলো আল কুরআনের বাস্তব রূপ এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা। এটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবন দর্পন এবং শরী‘আতের দ্বিতীয় মূল ভিত্তি। হাদীস ব্যতীত কুরআন বোঝা এবং বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। কেউ এর বিপরীত দাবি করে থাকলে সে হয় মিথ্যাবাদী, নয় উন্মাদ-নির্বোধ। কুরআনে আল্লাহ বান্দাহদের জন্য এমন অনেক বিধান নির্দেশ করেছেন, যেগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার দায়িত্ব তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর ন্যস্ত রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর বক্তব্য ও কর্ম-পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যা হাদীসসমূহে সংরক্ষিত আছে। ঠিক এ কারণেই, রাসূল (সাঃ) এর যামানা থেকে অদ্যবধি সর্বযুগে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উম্মতের উলামাগণ কুরআন চর্চার সমান গুরুত্ব দিয়েই হাদীস চর্চা করেছেন। এর সংকলন, সংরক্ষণ ও প্রসারে বিরামহীনভাবে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন। হাদীস অস্বীকারকারী প্রবৃত্তিপূজারীদের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থান নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র উম্মোচন করেছেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই মুসলিমরা পেয়েছে সহীহ বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা মালেক, সুনান আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ ইত্যাদির মতো বিশ্ববিখ্যাত, সর্বজনসমাদৃত হাদীসের সংকলনসমূহ। আল্লাহ তাঁদেরকে এবং তাঁদের মেহনতকে কবুল করুন।

‘আসমাউর রিজাল’ তথা রিজাল শাস্ত্র ইলমুল হাদীসের খুবই গুরুত্বপুর্ণ একটি দিক। বিভিন্ন স্তরের হাদীস বর্ণনাকারীদের পরিচয়, জন্ম মৃত্যু, শিক্ষক ও ছাত্রদের বিবরণ, জ্ঞানার্জনের জন্য ব্যাপক ভ্রমণ এবং নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বা অনির্ভরযোগ্য হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াটা প্রতিটি বর্ণিত হাদীসের শুদ্ধতার জন্য জরুরী বিষয়। জ্ঞানের এই শাখার ব্যাপকতা যেমন বেশী, তেমনি এর উপকারিতা ও প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এর মাধ্যমে রাসূলের (সাঃ) হাদীসকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে। রিজাল শাস্ত্রের বদৌলতে বিভিন্ন প্রজন্মের প্রায় পাঁচ লক্ষ রাবীর জীবন ইতিহাসে সংরক্ষিত রয়েছে। জ্ঞানের কোনো একটি শাস্ত্রকে সংরক্ষণের জন্য মুসলিম জাতির নেয়া এই পদক্ষেপের নজির পৃথিবীর অন্য আর কোনো জাতির মধ্যে পাওয়া অসম্ভব।

অত্র সংকলনটি ইলমুল হাদীস ও আসমাউর রিজালের খেদমতে আমাদের একটি ছোট্ট পদক্ষেপ। এ গ্রন্থে হাদীসের প্রথম পর্যায়ের বর্ণনাকারী তথা রাসূলের (সাঃ) সাহাবাদের জীবনী সংক্ষিপ্তভাবে আলোচিত হয়েছে। বস্তুত, সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন অহীর প্রথম শ্রোতা, প্রথম হাফেয, প্রথম লেখক এবং প্রথম সংরক্ষক। তারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজের পূর্ণ বাস্তবায়নকারী, আনুগত্যশীল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিত্ব। আল্লাহর কুরআনকে তাঁরা যেরূপ গুরুত্বের সাথে প্রতিযোগিতামূলকভাবে মুখস্ত করতেন, রাসূলের (সাঃ) পবিত্র হাদিস ভান্ডারকেও সেভাবে মুখস্ত করার ব্যাপারে তারা একইরকম গুরুত্ব প্রদান ও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদ্বুউ আনহু। অত্র গ্রন্থে চল্লিশজন হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচিত হয়েছে।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “ইলমে হাদীসের বাতিঘর”

Your email address will not be published. Required fields are marked *